সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল চারটায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর-বিবিসি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতেই ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে বলে জানান। ট্রাম্প তার বক্তব্যে আজকের এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে। আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’। আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন।
ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনও ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয়, তার ৮০ শতাংশের বেশি সে দেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয়, সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সে দেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য। ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে। অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মোট বিক্রি হওয়া গাড়ির মাত্র ৫০ শতাংশ তৈরি হয় দেশে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আমদানিতে শুল্ক আরোপের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই শুল্ক থেকে বছরে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় বৃদ্ধি হবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর সূত্র জানিয়েছে, সারা পৃথিবী থেকে তারা গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করে। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গাড়ি উৎপাদনের খরচ বাড়বে এবং বিক্রি কমে যাবে। দ্য সেন্টার ফর অটোমোটিভ রিসার্চ এর আগেই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ধার্য করা করের ফলে গাড়ির দাম অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নতুন কর আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক লড়াই আরো জটিল হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপরন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। এই শুল্কের বোঝা যদি তাদের ওপর আরোপিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির গড় মূল্য সাড়ে ১২ হাজার ডলারের কাছাকাছি হবে। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলেও মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই নতুন শুল্ক ঘোষণার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সে দেশের শ্রমিকরা।
খুলনা গেজেট/এইচ